DNS কি, DNS সার্ভার কি এবং কিভাবে কাজ করে?

DNS হলো ডোমেইন নেম সিস্টেম। আর DNS Server হলো যেখানে ডোমেইন নেম সিস্টেম হোস্ট করা থাকে। DNS কি, এর সার্ভার কি এবং DNS কিভাবে কাজ করে সেটা আমরা আজকে ডিটেলস জানবো।

ডোমেইন নেম সিস্টেম হলো ইন্টারনেটের ফোনবুক। একটা উহারহন দিই তাহলেঃ আমাদের পরিচিত অনেকের নাম্বার আমরা মোবাইলে স্পেসেফিক নামে সেভ করে রাখি।

যদিও আমরা স্পেসেফিক নামে সেভ করে রাখি, তারপরেও আমরা যখন কাউকে কল করি তখন কিন্ত নাম্বার ধরেই ওই লোকের কাছে ফোন যায়। তাহলে মোবাইল নাম্বারটাই আমাদের মোবাইল বা ডিভাইসের কাছে মূল জিনিস।

তেমনি আমাদের প্রতিদিনের ব্রাউজ করা আমাদের পরিচিত অপরিচিত সকল ওয়েব সাইটের জন্য একটা নাম্বার সেট করা থাকে সেটাকে বলে IP (আইপি) নাম্বার। যেমনঃ ফেসবুকের আইপি নাম্বার বের করার জন্য আমাদের কম্পিউটারের টার্মিনালের কমান্ড প্রম্পটে টাইপ করতে হবেঃ

nslookup facebook.com

এই কমান্ড টাইপ করে এন্টার দিলে নিচের ছবির মত একটা রেসপন্স আসার কথা। সেখানে ফেজবুকের আইপি এড্রেস দেওয়া থাকবে।

এই আইপি এড্রেস (31.13.79.35 ) কপি করে যদি আমরা ব্রাউজারে গিয়ে ব্রাউজ করি তাহলে ফেসবুক চলে আসবে।

এখন কথা হচ্ছে সবার ক্ষেত্রে ফেজবুকের জন্য কিন্ত এই আইপি এড্রেস একই থাকবে না। এর কারন সংক্ষিপ্তভাবে বললে যেটা হয় সেটা হলোঃ বড় বড় কোম্পানি যাদের অনেক বেশি ইউজার, তাদের অনেক গুলো সার্ভার লোকেশন থাকে। সেসব বিভিন্ন দেশে থাকতে পারে। সেসব সার্ভারের ভিন্ন ভিন্ন আইপি থাকে, যাতে করে কোন দুষ্ট চক্র যাতে DDoS বা ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনাইল অব সার্ভিস এটাক করতে না পারে। DDoS এক ধরনের এটাক যাতে করে অল্প সময়ে অনেক বেশি ট্রাফিক দেখিয়ে কোন সার্ভার রিসোর্স নষ্ট করে তাকে ডাউন করে দেওয়া যায়। এটা সাধারনত হ্যাকাররা করে থাকে।

অনেক গুলো সার্ভারের আইপি + আমাদের নিজেদের আইপি মিথস্ক্রিয়া করে ফেজবুক বা এই ধরনের বড় বড় কোম্পানি যেমনঃ গুগল, মাইক্রোসফট, পেপাল এর জন্য ভিন্ন ভিন্ন আইপি হতে পারে। আমাদের জন্য দেওয়া আইপি যে তাদের একমাত্র আইপি এড্রেস না এটা দেখার জন্য, আমাদের কাছে যদি VPN থাকে তাহলে তার মাধ্যমে চেক করলেই বুঝতে পারবো। ভিনিএনসিটি দিয়ে চেক করতে পারেন। তারা ফ্রিতেই ভালো ভিপিএন সার্ভিস দিতে থাকে।

তো DNS ফোনবুকের মত কাজ করে। যখন আমরা কোন নাম ধরে সার্চ দিবো তখন এই DNS এর কাজ হলো এই নামের জন্য কোন আইপি (বা মোবাইল নাম্বার 😜) সেট করা আছে সেটা খুজে বের করা। তখন ব্রাউজার করবে কি, এই এড্রেস কোন সার্ভারে স্টোর করা আছে সেটা চেক করা শুরু করবে। যদি ওই কোম্পানি CDN বা কনটেন্ট ডেলিভারী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তখন CDN এজ সার্ভার বা আমাদের লোকেশন থেকে পাশে পাশের সবচেয়ে কাছের কন্টেন্ট ডেলিভারী সার্ভার থেকে ওয়েব সাইট ইনফরমেশন নেওয়ার চেষ্টা করবে।

ইন্টারনেট টেকনোলজিতে ব্রাউজার বা আমরা আমজনতা হলো ক্লায়েন্ট। তো আধুনিক ডিভাইসগুলো যেমনঃ কম্পিউটার, মোবাইল, এসবে DNS সিস্টেম আগে থেকে তৈরি করা আছে যেখানে DNS সার্ভারের সাথে কিভাবে কমিউনিকেট করতে হবে সেটা ঠিক করা আছে।

DNS সার্ভার হলো যেখানে ওয়েবসাইটের Domain Name System এর আইপি স্টোর করা থাকে।

নরমালি যেকোন DNS কোয়েরির (DNS Query) জন্য চার ধরনের সার্ভার একসাথে কাজ করে, একটা আইপি লুকআপ ক্লায়েন্টের কাছে ডেলিভার বা পৌছানোর জন্য। সেগুলো হলোঃ রিকারসিভ রিসলভার, রুট নেমসার্ভার, টপ লেভেল ডোমেইন নেমসার্ভার (TLD Nameserver), অথরিটেটিভ নেমসার্ভার।

প্রথমে রিকারসিভ রিসলভার ক্লায়েন্ট ব্রাউজারের কাছ থেকে কোন ওয়েবসাইট নামের কোয়েরি রিকোয়েস্ট পাওয়ার পর বাকি ৩ ধরনের সার্ভারের সাথে যোগাযোগ শুরু করে দেয় সঠিক আইপি খুজে বের করার জন্য।

যখন রিকারসিভ রিসলভার ক্লায়েন্ট ব্রাউজারের কাছ থেকে কোন রিকোয়েস্ট পায় তখন নিজেই ক্লায়েন্টের মত আচরন করে বাকি ৩ ধরনের সার্ভার থেকে সঠিক আইপি খুজে পাবার জন্য রিকোয়েট পাঠায়।

প্রথমে রিকারসিভ রিসলভার রুট সার্ভারের কাছে তথ্য পাবার জন্য রিকোয়েস্ট বা কোয়েরি পাঠায়। রুট সার্ভার প্রথমে মানুষের জন্য সহজপাঠ্য ওয়েবসাইটের নামকে আইপি এড্রেসে রূপান্তর করে। তারপর রুট সার্ভার রিকারসিভ রিসলভারের কাছে টপ লেভেল ডোমেইন DNS সার্ভারের ঠিকানাসহ ওই ডোমেইন বা ওয়েবসাইটের তথ্য পাঠায়।

তারপর রিকারসিভ রিসলভার TLD সার্ভারের কাছে রিকোয়েস্ট বা কোয়েরি পাঠায়। TLD সার্ভার তখন রিকোয়েস্টকৃত ওয়েব সাইটের জন্য অথরিটেটিভ নেমসার্ভারের আইপি তথ্য পাঠায়। তারপর সর্বশেষ রিকারসিভ রিসলভার ক্লায়েন্টের কাছ থেকে রিকোয়েস্টকৃত ওয়েবসাইটের আইপি খুজে পাবার জন্য অথরিটেটিভ নেমসার্ভারের কাছ থেকে মূল এবং সাঠিক সার্ভারের আইপি খুজে নিয়ে আসে।

রিকারসিভ রিসলভার তারপর এই মূল এবং সঠিক সার্ভারের আইপি এড্রেস ক্লায়েন্ট ব্রাউজেরের কাছে নিয়ে আসে। তারপর আমাদের সাথে ওয়েবসাইট স্টোরের সাথে যখন সংযোগ স্থাপন হয়ে যায়, তখন আমরা সেই ওয়েব সাইটের সকল তথ্য ব্রাউজারের মাধ্যমে দেখতে পাই।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিই অনেক জটিল এবং সিকিউর এবং এর সাথে অনেক লেয়ার জড়িত। কিন্ত তারপরেও এই পুরো প্রক্রিয়াটিই সম্পন্ন হতে কয়েক মিলিসেকেন্ড সময় লাগে!

Share this post
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x